এক সময়ের অশিক্ষিত রাখাল থেকে দেবী সরস্বতীর কৃপায় পরিণত হওয়া মহাকবি। শান্ত, গভীর চিন্তাশীল, অহংকারহীন। জ্ঞানকে তিনি ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব মনে করেন।
শিষ্য (বিশ্বস্ত অনুগামী):
যুবক, গুরুভক্ত, বাস্তববাদী। কালিদাসকে পিতার মতো মানে। গুরু বিপদে পড়তে পারেন—এই আশঙ্কায় সর্বদা সজাগ।
যুবক, গুরুভক্ত, বাস্তববাদী। কালিদাসকে পিতার মতো মানে। গুরু বিপদে পড়তে পারেন—এই আশঙ্কায় সর্বদা সজাগ।
মহারাজ (রাজা):
বিদ্বানদের সম্মান করেন, কিন্তু দরবারি রাজনীতির জালে আবদ্ধ। সিদ্ধান্তহীনতা ও দুর্বলতাই তাকে অনিচ্ছাকৃত অপরাধী করে তোলে।
দরবারের পণ্ডিত (ঈর্ষান্বিত):
অত্যন্ত শিক্ষিত কিন্তু অহংকারী। কালিদাসের খ্যাতি সহ্য করতে না পেরে ষড়যন্ত্রের মূল মাথা।
গণিকা (ছদ্মবেশী ষড়যন্ত্রী):
রূপ ও বুদ্ধির মিশ্রণ। দরবারের পণ্ডিতদের দ্বারা প্ররোচিত। মিষ্টি কথার আড়ালে ভয়ংকর ফাঁদ।
রাজার দূত:
দরবারের সংবাদ বহনকারী, রাজ্যের বাইরে কালিদাসের খ্যাতির সাক্ষী।
ঘাতক ১ ও ঘাতক ২:
নিঃশব্দে কাজ করা পেশাদার খুনি, আদেশ পালনই যাদের ধর্ম।
দেবী সরস্বতী (স্বপ্নকণ্ঠ):
জ্ঞান ও বিবেকের প্রতীক। কালিদাসকে শেষ সতর্কবার্তা দেন।
দৃশ্য ১: রাজদরবার — খ্যাতি ও ঈর্ষা (বিস্তৃত)
মহারাজ: আজ দরবারে তাকালেই এক নাম কানে আসে—কালিদাস। তার কবিতার পংক্তি নাকি পাহাড়, নদী, সমুদ্র পেরিয়ে গেছে!
দূত: মহারাজ, আমি নিজ কানে শুনেছি। বিদেশি দূতেরা আপনার সভায় এসে ‘মেঘদূত’ আবৃত্তি করছে। তারা বলছে—এ কবিতা দেবতার লেখা।
পণ্ডিত (ঠোঁট বাঁকিয়ে): দেবতার লেখা হলে মানুষ কেন বাহবা পায়, মহারাজ?
মহারাজ: কী বলতে চাও পণ্ডিত?
পণ্ডিত: খ্যাতি যত বাড়ে, অহংকারও তত বাড়ে। আজ সে কবি, কাল সে রাজাকেও প্রশ্ন করবে।
মহারাজ: কিন্তু আমি তো শুনেছি কালিদাস বিনয়ী।
পণ্ডিত: বিনয়ের মুখোশে অনেক সময় অহংকার লুকিয়ে থাকে, মহারাজ।
মহারাজ: আজ দরবারে তাকালেই এক নাম কানে আসে—কালিদাস। তার কবিতার পংক্তি নাকি পাহাড়, নদী, সমুদ্র পেরিয়ে গেছে!
দূত: মহারাজ, আমি নিজ কানে শুনেছি। বিদেশি দূতেরা আপনার সভায় এসে ‘মেঘদূত’ আবৃত্তি করছে। তারা বলছে—এ কবিতা দেবতার লেখা।
পণ্ডিত (ঠোঁট বাঁকিয়ে): দেবতার লেখা হলে মানুষ কেন বাহবা পায়, মহারাজ?
মহারাজ: কী বলতে চাও পণ্ডিত?
পণ্ডিত: খ্যাতি যত বাড়ে, অহংকারও তত বাড়ে। আজ সে কবি, কাল সে রাজাকেও প্রশ্ন করবে।
মহারাজ: কিন্তু আমি তো শুনেছি কালিদাস বিনয়ী।
পণ্ডিত: বিনয়ের মুখোশে অনেক সময় অহংকার লুকিয়ে থাকে, মহারাজ।
দৃশ্য ২: কুটির — সতর্কতা (বিস্তৃত)
শিষ্য: গুরুদেব, আজ দরবারে আপনার নাম উঠেছিল। কিন্তু প্রশংসার চেয়ে সন্দেহই বেশি শুনলাম।
কালিদাস: সন্দেহ মানুষের স্বভাব, বৎস। সূর্য উঠলেও কেউ চোখ বন্ধ করে থাকে।
শিষ্য: তবু আমার ভয় হচ্ছে। আপনার খ্যাতি অনেকের চোখে কাঁটা।
কালিদাস: যদি কাঁটা না হই, তবে আলো হব কী করে?
শিষ্য: গুরুদেব, কখনো কখনো আলো নিভিয়েও দেওয়া হয়।
কালিদাস (মৃদু হাসি): যদি নিভে যাই, কবিতা থাকবে।
দৃশ্য ৩: গণিকার আগমন — মধুর ফাঁদ (বিস্তৃত)
গণিকা: প্রণাম, হে মহাকবি। আপনার কবিতায় আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি।
কালিদাস: প্রণাম। হারিয়ে যাওয়া নয়, নিজেকে খুঁজে পাওয়াই কবিতার কাজ।
গণিকা: তবে আমাকে পথ দেখান। আমি আপনার শিষ্যা হতে চাই।
কালিদাস: জ্ঞান কারও একার নয়। বসো, বলো কী জানতে চাও।
(গণিকার চোখে ক্ষণিকের জয়ী হাসি)
গণিকা: প্রণাম, হে মহাকবি। আপনার কবিতায় আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি।
কালিদাস: প্রণাম। হারিয়ে যাওয়া নয়, নিজেকে খুঁজে পাওয়াই কবিতার কাজ।
গণিকা: তবে আমাকে পথ দেখান। আমি আপনার শিষ্যা হতে চাই।
কালিদাস: জ্ঞান কারও একার নয়। বসো, বলো কী জানতে চাও।
(গণিকার চোখে ক্ষণিকের জয়ী হাসি)
দৃশ্য ৪: প্রশ্নের বীজ (বিস্তৃত)
গণিকা: একটি প্রশ্ন আছে, কবি। বহু রাত আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
কালিদাস: প্রশ্নই মানুষকে জাগিয়ে রাখে।
গণিকা (ধীরে, স্পষ্ট করে): যা কালো, তা সাদা; যা সাদা, তা কালো—কীসে লেখা যায় এমন?
কালিদাস (মুখ গম্ভীর): এই প্রশ্নের উত্তর এখন নয়।
গণিকা: তবে কি আপনি জানেন না?
কালিদাস: জানি বলেই বলছি—এখন নয়।
গণিকা: একটি প্রশ্ন আছে, কবি। বহু রাত আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
কালিদাস: প্রশ্নই মানুষকে জাগিয়ে রাখে।
গণিকা (ধীরে, স্পষ্ট করে): যা কালো, তা সাদা; যা সাদা, তা কালো—কীসে লেখা যায় এমন?
কালিদাস (মুখ গম্ভীর): এই প্রশ্নের উত্তর এখন নয়।
গণিকা: তবে কি আপনি জানেন না?
কালিদাস: জানি বলেই বলছি—এখন নয়।
দৃশ্য ৫: দরবারের ষড়যন্ত্র (বিস্তৃত)
পণ্ডিত: মহারাজ, ওই প্রশ্নই যথেষ্ট। যদি সে উত্তর দেয়, প্রমাণ হবে সে আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
মহারাজ: তাতে ক্ষতি কী?
পণ্ডিত: রাজ্যে একজন মানুষ যদি সবার ওপরে উঠে যায়, তবে রাজসিংহাসনও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
মহারাজ (নীরব): তুমি কী চাও?
পণ্ডিত: শুধু সত্য যাচাই।
পণ্ডিত: মহারাজ, ওই প্রশ্নই যথেষ্ট। যদি সে উত্তর দেয়, প্রমাণ হবে সে আমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
মহারাজ: তাতে ক্ষতি কী?
পণ্ডিত: রাজ্যে একজন মানুষ যদি সবার ওপরে উঠে যায়, তবে রাজসিংহাসনও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
মহারাজ (নীরব): তুমি কী চাও?
পণ্ডিত: শুধু সত্য যাচাই।
দৃশ্য ৬: স্বপ্নে দেবীর সতর্কতা (বিস্তৃত)
দেবী সরস্বতী (স্বপ্নকণ্ঠ): কালিদাস, জ্ঞান কখনো কলমে লিখো না, যখন তা রক্ত ডেকে আনে।
কালিদাস: দেবী, আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমি কিছুই লিখব না।
দৃশ্য ৭: প্রতারণার চূড়া (বিস্তৃত)
গণিকা: কবি, উত্তর না দিলে অন্তত একটি চিহ্ন দিন। আমি বিশ্বাস করব আপনি জানেন।
কালিদাস (দ্বিধায়): শুধু একটি দাগ…
(মাটিতে দাগ আঁকা হয়)
গণিকা (মনে মনে): এটাই আমার বিজয়।
গণিকা: কবি, উত্তর না দিলে অন্তত একটি চিহ্ন দিন। আমি বিশ্বাস করব আপনি জানেন।
কালিদাস (দ্বিধায়): শুধু একটি দাগ…
(মাটিতে দাগ আঁকা হয়)
গণিকা (মনে মনে): এটাই আমার বিজয়।
দৃশ্য ৮: সংকেতের অর্থ
পণ্ডিত: কালো কালি, সাদা কাগজ—আমরা পেয়ে গেছি।
ঘাতক ১: আজ রাতেই আদেশ?
পণ্ডিত: কালো কালি, সাদা কাগজ—আমরা পেয়ে গেছি।
ঘাতক ১: আজ রাতেই আদেশ?
পণ্ডিত: আজই। জ্ঞান যেন আর কথা না বলে।
দৃশ্য ৯: রাতের আক্রমণ (বিস্তৃত)
ঘাতক ২: এই কুটিরটাই।
কালিদাস: কে সেখানে?
ঘাতক ২: এই কুটিরটাই।
কালিদাস: কে সেখানে?
(নিঃশব্দ আক্রমণ)
কালিদাস (শেষ নিঃশ্বাসে): জ্ঞান আমাকে মহান করেছিল… ঈর্ষা আমাকে শেষ করল…
কালিদাস (শেষ নিঃশ্বাসে): জ্ঞান আমাকে মহান করেছিল… ঈর্ষা আমাকে শেষ করল…
দৃশ্য ১০: শিষ্যের বিলাপ
শিষ্য: গুরুদেব! আপনার কবিতা বেঁচে থাকবে, কিন্তু আপনাকে আমরা হারালাম!
শিষ্য: গুরুদেব! আপনার কবিতা বেঁচে থাকবে, কিন্তু আপনাকে আমরা হারালাম!
